NA
NA
ভালোবাসা

আমাদের সবচেয়ে বড় ভয় “লোকে কি বলবে”

 আমাদের সবচেয়ে বড় ভয়


লোকে কি বলবে: 

ধরুন একজন অল্প বয়সী মেয়ে রাস্তায় দারিয়ে আছে একা কানে ফোন। কারো জন্য অপেক্ষা করছে বোধ হয়।

 আচ্ছা ধরুন আপনি শুনলেনও, “কি হল কখন আসবে আর কতখন অপেক্ষা করবো

 ব্যাস ভেবে নিবেন নিশ্চয়ই তার প্রেমিকের জন্য অপেক্ষা করছে। কিংবা

 ধরুন পাড়ার কোন অল্প বয়সী মেয়ে রাস্তায় দিয়ে যাচ্ছে ফোনে কথা বলতে বলতে মৃদুস্বরে।

 ব্যাস ভেবে নিয়ে বলবেন “ আরে দেখেছো দেখে মনেই হয় না যে প্রেম করে। এমন ভাব দেখায় যেন ভাজা মাছটা উলটিয়ে খেতে পারে না ঢং

 আবার ধরুন আপনার বাড়ীর ফ্লাটের অপর দিকের ফ্লাটে যে একজন বিবাহিত নারী থাকে। তাকে প্রতিদিন দেখেন স্বামীকে বিদায় করার পর বেলকানিতে এসে ফোনে হাসতে হাসতে কার সাথে যেন কথা বলতে। আবার বলে উঠলেন “দেখেছো কি বাজে চরিত্র মেয়ের, যেই বেড়িয়ে গেলো স্বামী অমনি আরেকজনের সাথে শুরু। ছিছি ছি

 

প্রথম ঘটনাটি আমার সাথে ঘটা।

মায়ের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। মাকেই ফোন করছিলাম অফিস থেকে কখন বের হবে। আমরা তো আর “ইস্টি কুটুমেরবাহা নয়  যে সবাইকে তুই করে ডাকবো। তুমি মানেই প্রেমিক বা প্রেমিকা। এই লোজিকটা কত গুরুত্ব দেয় মানুষ।

 আরও পড়ুনঃ বিশেষ মানুষের বলা  বিশেষ কিছু কথা।

 দ্বিতীয় ঘটনাটি আমার খুব কাছের বান্ধুবীর সাথে ঘটা

আমরা রোজ কথা বলি, দুপুর ১টা বা ২টার সময়। ওর Husband বের হওয়ার পর অনেকটা সময় পাওয়া যায়। তাই তখন আমাদের মাঝে কিছু সুখ দুঃখের আলাপ। এছাড়া আর তেমন কিছু না। শুধু দেখা গিয়েছে কথা বলার সময় হেসেছে ব্যাস এইটুকুই ।

 

ছোট বেলা থেকে একটা বেধিতে আক্রান্ত পরিবারের পর পরিবার। বেধিটার নাম “লোকে কি বলবে

আমাদের ছোট থেকে   ঢুকিয়ে দেওয়া হয় একটা কথা যে তোমার কতটা কস্ট লাগলো বা খারাপ লাগলো সেইটা বড় কথা নয়। কথা হচ্ছে “লোকে কি বলবে“। সমাজের মধ্যে আমাদের একটা মানসম্মান আছে। অলিখিত ভাবে এইটা একটা বিঁধান।

আর হে বলেও অনেক লোকে যেমন, রাত অব্দি অনলাইনে থাকলেই বলে কি ব্যাপার কার সাথে কথা হয় এত রাত অব্দি। অনলাইন মানে মানুষের একটা ভ্রান্থো ধারনা আছে।

হতে পারে কেউ গান শুনতে পারে বা ইন্টারনেট সারফিং করতে পারে। মানে অনেক কিছুই করতে পারে।

“Internet is not all About Chatting” .

 

সবকিছুর ভেকসিন বের হবে জানেন তো সব কিছুর। সব অসুখের জন্য সাইন্স আসবে, আসবে না শুদু “লোকে কি বলবে” এই মহামারিটির ভেকসিন।

শুদু এই একটা লাইনের জন্য কত সপ্ন ভেঙ্গে যায়। কত কিছু করার থাকে কিন্তু করা হয়ে আর উঠে না।

অভিনয় হওয়ার দক্ষতা ছিল কারো কিংবা মডেল হতেও পারতো। কিন্তু মিডেল ক্লাস ফেমিলি তো “লোকে কি বলবে”।

যার একদিন Stage কাপানোর কথা ছিল সে হয় তো এখন কোন বদ্ধ ভ্রমন ঘরে বসে File Check করে।

একটা মেয়ে হয় তো বেচে যেতে পারতো স্বামীর অত্তাচার থেকে । কিন্তু “লোকে কি বলবে” বিবাহিত মেয়েকে ফিরত আনলে। এর চাইতে হয়তো ভালো পেপারে নাম উঠুক ব্ধু হত্যার।

 

একটা ছেলে হয় তো ভালো থাকতে পারতো ক্রিকেতের ময়দানে ছক্কা মেরে। কিন্তু সময় লাগবে তো যে একটু প্রথীস্টিতো হতে “লোকে কি বলবে”। ছেলেটা এখন কম্পিউটারে বসে থাকে বদ্ধ থাকে আইটি সেক্টর কাছের দেওয়ালের মধ্যে। যার আকাশ দেখার কারবার ছিল সে আর আকাশ দেখতে পায় না।

যেই মানুষটার সাথে সম্পর্কটা পরিনিতি পেলে জীবনটা হয় তো অন্যরকম হতো। আজও এতো বড় উন্নতি পৃথিবীর তারপরও কোথাও না কোথাও সম্পর্কটা মেনে নেয় পরিবার। কারনটা একটাই “লোকে কি বলবে”।  

কখনো কখনো নিজের জীবন, নিজের সপ্ন, নিজের সবটা দিয়ে কিনে নিতে হয় সমাজটাকে।

 

ঘরের বউ বেশি অনলাইনে থালে লোকে বলে, মধ্যো বয়সে এসে লাল শাড়ী পরলে লোকে বলে, একটু উচু স্বরে কথা বললে আবার লোকে বলে, দেরিতে বিয়ে হলেও লোকে বলে, হাজারটা গুন্ডি পেরিয়েও চাকরি না পেলে লোকে বলে, বাড়ির পুরুষ রান্নাঘরে ঢুকলে লোকে কথা বলে, নিজের ভালো থাকার চেস্টা করলেও লোকে বলে, স্লিপলেস ব্লাউজ পড়লেও লোকে বলে, ছেলে বন্ধুর সাথে কথা বললে অবশ্যই লোকে বলে, ছেলেদের টাকায় মেয়েরা কেন চাকরি না করে বসে খাবে বলে। এই সমাজটা একটা চাকরির কম রোজগারের স্বামী হলে টিটকারী তা মারতে ছাড়ে না। এই সমাজ বুড়ো বাবার চাকরি রিটায়ার করার পর বসে খেলে, ঐ যে মেয়ের টাকায় খাচ্ছে বলতেও ছাড়ে না।

খুব শান্ত একটা মানুষ। কোনদিন গলা তুলে কথা বলে নি। একদিন হয় তো ধরযের সীমানা পেরিয়ে কথা বলতে শিখলো।  লোকে বলবে অনেক বলবে। এমন কি অন্য কারো খারাপ হওয়ার দোষটাও ছাপিয়ে দিতে পারে ঘারে। অমুক ওতো ওর জন্য খারাপ হল।

কেঊ এইটা বলবে না যে হটাত এমন কি হল এমন করছে। নিশ্চয়ই কোন কারন আছে। নাহ! কোন কারন নেই কারন থাকতে নেই। কারন একটাই “লোকে কি বলবে”।

 কার কতটা আগে বিয়ে হল, কে কত আগে চাকরি পেল, কে কত আগে সন্তান জন্ম দিল, কে কত আগে কি করলো কোন প্রতিযোগীতা মেটার করে না।

মেটার করে একটাই কে কতটা সুখে আছে, কে কতটা ভালো আছে ব্যাস।

আমরা নিজেরাও হিসাব রাখিনি শুধু কে কি বলবে ভেবে কত কিছু করবো ভেবেও করিনি। কতকিছু হওয়ার ছিল হইনি। যদি একটা হিসাব করার ডায়েরী থাকতো তাহলে প্রতি পাতায় পাতায় থাকতো কত কিছুর ইচ্ছের মৃত্যু। লিখিনি ভালই করেছি। অন্ততো জোর গলায় বলতে তো পারি..

 “কুচতো লোগ কেহেঙ্গে, লোগোকা কাম হে কেহনাহ”।

 

আমি জানি না  দিনটা কবে আসবে। যদি এমন একটা দিন আসে কারো ক্ষতি না করে কোন অপরাধ, অরুচিকর কাজ না করে মানুষ নিজের মতো করে থাকতে পারবে নিজের পরিবারের সাথে।

শাসনটা আসবে তবে উৎস থেকে লোকে কি বলবে সেই তা ভেবে নয়। সেইদিন দুনিয়ায় অনেক রঙ আসবে, বিচ্ছেদের শেষে মিলন আসবে, অপছন্দের বিষয়ের বদলে নতুন বৈঠার গন্ধ আসবে। দূরত কমে যাবে এক মহা দৃশ্য প্লেট। শুধু ভেক্সিন্টা আনতে হবে।

আনাটা মুশকিল কারন রোগটা যখন মনে সাইন্স সেখানে অসহায়।

সবাই ভালো থাকবেন। 

কলমে : দেবারতি গোস্বামী 

 

 

Related Articles

Back to top button