NA
NA
ভালোবাসা

দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প | Naughty sweet love story

 দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প

বিকালের দিকে আমার স্ত্রী শ্রাবণীর সাথে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়ে গেলো।
ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি পাশের রুম থেকে একটা কোলবালিশ এনে মাথায় তুলে আছাড় মারলাম।
শ্রাবণী অবাক হয়ে বললো,
– আরে, এমন করছো কেন?
আমি রেগে গিয়ে বললাম,
–কি আর করবো, তোমায় তো মারতে পারি না কারণ প্রথমত তুমি মেয়ে মানুষ আর দ্বিতীয়ত তোমার বাবা পুলিশ৷ তোমার গায়ে হাত তুললে তোমার বাবা আমাকে চৌদ্দশিকের ভাত খাওয়াবে। তাই কোলবালিশকে মেরে মনের জ্বালা মিটাচ্ছি
আমার কথা শুনে শ্রাবণী বললো,
– আজ জ্বালা মিটানোর জন্য কোলবালিশ আছাড় মারলে কাল তো আমায় মাথায় তুলে আছাড় মারবে
আমি মুচকি হেসে বললাম,
— আরে না, তোমার মত মুটকিকে কখনোই মাথার উপর তুলা সম্ভব না
শ্রাবণী আমার কথা শুনে প্রচন্ড রেগে গেলো। ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছে বাপের বাড়ি চলে যাবে। আমার সাথে আর সংসার করবে না। কয়েকদিন পর আমাকে নাকি ডিভোর্স লেটার পাঠাবে। রুম থেকে বের হবার সময় আমায় বললো,
– আমি তো এখন পুরাতন হয়ে গেছি তাই আমাকে মুটকি লাগে। কিন্তু ভার্সিটি লাইফে এই মুটকির পেছন পেছন অনাথ কুকুরের বাচ্চার মত ঘুরতে
— তুমি আমাকে কুকুর বললে?
– তুমি কুকুরের চেয়েও নিচু স্তরের…
|
|
শ্রাবণী এক রিকশা দিয়ে যাচ্ছে আর আমি পিছন পিছন অন্য একটা রিকশা দিয়ে ওকে ফলো করছি। শ্বশুরবাড়ি সামনে আসলে আমি রিকশা থেকে নেমে ওর কাছে গিয়ে বললাম,
— তোমার পিছন পিছন এসেছি বলে এটা ভেবো না আমি তোমাকে নিতে এসেছি। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো রাস্তায় তোমার কোন সমস্যা হলে তোমার বাপ আমাকে জেলে ঢুকাতো। তাই তোমার সাথে সাথে এসেছি
শ্রাবণী রেগে গিয়ে বললো,
– তোমার কি ধারণা তোমার মতো নিচু চরিত্রের মানুষ আমাকে নিতে চাইলেই আমি যাবো? যে পুরুষ স্ত্রীকে সম্মান না দিয়ে মুটকি বলে সেই পুরুষের সাথে সংসার করার কোন মানেই হয় না
—–
বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা আফজাল সাহেব উনার স্ত্রী রিনাকে বললো,
~ওদের ভবিষ্যৎ কি হবে বলো তো? ওরা দুইজন দুইজনকে ছাড়া থাকতেও পারে না আর দুইজন একসাথেও থাকতে পারে না
আফজাল সাহেবের স্ত্রী রিনা মুচকি হেসে বললো,
~ওরা আর পাল্টাবে না।ওরা এমনি থাকবে
আফজাল সাহেব তখন বললো,
~যাও দরজা খুলো গিয়ে। দেখো গিয়ে আজ আবার নতুন কি নাটক নিয়ে এসেছে । আমি গেলে তো আমাকে দেখে জামাই দৌড়ে পালায়। আমি বুঝি না এই ছেলে আমাকে দেখে এত ভয় পায় কেন?
কলিংবেলের আওয়াজ শুনে শ্বাশুড়ি দরজা খুললো। শ্বাশুড়িকে দেখেই শ্রাবণী বললো,
-আমি কিন্তু আর ওর সাথে যাচ্ছি না। ও আজ আমায় মুটকি বলছে
আমি তখন শ্বাশুড়িকে বললাম,
— মা, আপনার মেয়ে আমায় অনাথ কুকুরের বাচ্চা বলছে। আপনাদের মেয়ে আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম এখন আমি যাই
শ্বাশুড়ি তখন বললো,
~এসেছো যখন রাতের খাবারটা খেয়ে যাও
মা, আমি কিন্তু খেতে আসি নি। তারপরও আপনি যেহেতু বলছেন শুধু আপনার কথা রাখার জন্য হলেও আমি রাতে খেয়ে যাবো
পাশ থেকে শ্রাবণী মুখ বাঁকিয়ে বললো,
– কুকুর কি আর এমনি এমনি বলেছি? কার্যকলাপে বলেছি। এতকিছুর পরেও উনি রাতে খেয়ে যাবেন
এই অপমান আর সহ্য করা যায় না। আমি রাগে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম আর যায় হোক শ্রাবণীকে আর বাসায় আনবো না। ওর কথা মনে করারও চেষ্টা করবো না।আজ থেকে আমি ওকে ছাড়াই একা শান্তিতে থাকবো
নিজের বাসায় এসে পরলাম। কিন্তু বাসায় ঢুকার সাথে সাথেই রাগ কমতে লাগলো আর শ্রাবণীকে প্রচন্ড মিস করতে শুরু করলাম। ফ্রিজ থেকে যখন ঠান্ডা পানির বোতলটা বের করলাম তখন মনে পরলো, এই ফ্রিজ কিনার সময় আমাদের কত ঝগড়া হলো। আমি বলেছি কালো রঙের ফ্রিজ নিবো আর ও বলে লাল রঙের নিবে। কিছু ভালো লাগছিলো না দেখে টিভিটা যখন অন করি তখনও শ্রাবণীর কথা মনে পরলো। চাকরির বেতন পেয়ে আমি ৪২ ইঞ্চি এই টিভিটা কিনেছিলাম বলে শ্রাবণী খুব রাগ করেছিলো। ও বলেছিলো, “আমার ২১ ইঞ্চি হলেই চলতো শুধু শুধু এত টাকা কেন নষ্ট করলে।”
নিজের রুমে এসে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় সামনে দাঁড়াতেই শ্রাবণীর কথা মনে হলো। প্রতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতাম শ্রাবণী এই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছে
খুব ক্লান্ত লাগছিলো দেখে বিছানায় শুয়ে পরি কিন্তু পাশের বালিশটা দেখে শ্রাবণীর কথা মনে পরে গেলো। ও সব সময় এই বালিশে মাথা রেখে ঘুমাতো
বিছানা থেকে উঠে বসলাম আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম, এই সব আমি কি ভাবছি। শ্রাবণীর কথা আর ভাববো না। ও একটা বদরাগী মেয়ে। নিজের স্বামীকে কুকুর বলেছে। চোখ মুখে পানি দেওয়ার জন্য ওয়াশরুমে যখন ঢুকলাম তখন মনে পরলো, গোসলের সময় শ্রাবণী যতবার আমাকে তোয়ালেটা দিতে এসেছে ততবারি আমি শ্রাবণীকে টেনে ওয়াশরুমের ভিতর নিয়ে এসেছি। তারপর ওর গোলাপি ঠোঁ**…
এমন সময় দেয়াল ঘড়ির ঢং ঢং আওয়াজ হতে লাগলো। রাত ১২টা বাজে। এই দেয়াল ঘড়িটাও শ্রাবণী কিনে এনেছে
না আর সহ্য করতে পারছি না। শ্রাবণীকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকা সম্ভব না। এই বাসার প্রতিটা কোণায় প্রতিটা আসবাবপত্রে শ্রাবণীর অস্তিত্ব লুকিয়ে আছে…
—-
তরকারির ঘ্রাণ পেয়ে আফজাল সাহেব আর উনার স্ত্রী রিনা রান্নাঘরে গেলেন। গিয়ে দেখেন উনাদের মেয়ে রান্না করছে। আফজাল সাহেব অবাক হয়ে মেয়েকে বললো,
~এত রাতে মা কার জন্য রান্না করিস?
মেয়ে মুচকি হেসে বললো,
-তোমাদের জামাইয়ের জন্য। রাতে না খেয়ে থাকলে ও আবার অসুস্থ হয়ে যায়
আফজাল সাহেব বলবো,
~জামাই তো রাগ করে চলে গেছে
মেয়ে মুচকি হেসে বললো,
– গিয়ে দেখো হয়তো গেইটের বাইরে ঘুরঘুর করছে। তুমি ডেকে বাসায় নিয়ে আসো আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি
বেলকনিতে এসে আফজাল সাহেব দেখে পিয়াস বাসার গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে । আফজাল সাহেব উনার স্ত্রীকে বললেন,
~জামাইকে ডেকে বলো উপরে আসতে। আমি ডাকলে ভয়ে আবার আসবে না
—–
বাসায় ঢুকে দেখি ডাইনিং টেবিলে আমার পছন্দের সব খাবার। নিশ্চয়ই শ্রাবণী রান্না করেছে। এই মেয়েটা আমায় অসম্ভব রকম ভালোবাসে। আমি তখন শ্বাশুড়িকে বললাম,
— মা, আমি কিন্তু আপনার মেয়েকে নিতে আসি নি। খাবার রেখে রাগ করে চলে গিয়েছিলাম বলে আবার এসেছি
আমার কথা শুনে শ্বাশুড়ি হাসতে লাগলো আর আড়চোখে শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে দেখি শ্রাবণীও মিটিমিটি হাসছে। এই সেই হাসি, যে হাসি দেখে আমি প্রথম শ্রাবণীর প্রেমে পরেছিলাম.
 
 
_হাসি
_আবুল_বাশার_পিয়াস
 
 
Naughty sweet love story 
 
 
In the afternoon a heated argument broke out with my wife Sravani.
At one point in the fight, I brought a pillow from the next room and threw it at my head.
Sraboni said in surprise,
– Hey, why are you doing that?
I said angrily,
– What else can I do, I can’t kill you because firstly you are a girl and secondly your father is a policeman If you put your hand on your body, your father will feed me fourteen rice. So I am relieving the irritation of the mind by killing Pillow
Listening to me, Sraboni said,
– If you throw a pillow today to relieve irritation, tomorrow you will hit me on the head
I smiled and said,
– Oh no, it’s never possible to put a fat like you on your head
Sraboni got very angry when she heard my words. He packed his bags and left for his father’s house. Don’t marry me anymore. Will you send me a divorce letter in a few days? As he left the room, he told me,
– I’m old now, so I’m tired. But in varsity life, to walk like an orphaned dog after this mutt
– You called me a dog?
– You’re inferior to a dog …
|
|
Sraboni is riding in a rickshaw and I am following her in another rickshaw. In front of my father-in-law’s house, I got down from the rickshaw and went to him and said,
– I don’t think I’ve come to pick you up. It was evening and if you had a problem on the street, your father would put me in jail. That’s why I came with you
Sravani got angry and said,
– Do you think I’ll go if people of low character like you want to take me? There is no point in marrying a man who does not respect his wife

—–
Mr. Afzal, standing on the balcony, said to his wife, Rina,
Tell me what will be their future? They can’t live without two people and two people can’t live together
Mr. Afzal’s wife Rina smiled and said,
They will not change. They will remain like this
Mr. Afzal then said,
Go and open the door. Go and see what new drama has come again today. When I left, my son-in-law saw me and ran away. I do not understand why this boy is so scared to see me?
The mother-in-law opened the door when she heard Calling bell’s voice. Seeing her mother-in-law, Sraboni said, 
 
– But I’m not going with him anymore. He is calling me Mutki today
I then told my mother-in-law,
– Mom, your daughter is calling me an orphaned dog. Your daughter went to you, now I go
The mother-in-law then said,
~ Come when you eat dinner
Mom, I didn’t come to eat. Even then, since you are saying just to keep your word, I will eat at night
Sravani turned her face from the side and said,
– Did I just say dog? I said in the activity. Even after all this, he will eat at night
This insult is no longer tolerated. I angrily left the in-laws’ house. I promised myself that I would not bring Sraboni home anyway. I will not even try to remember him. From today I will live in peace alone without him
I came to my house. But as soon as I entered the house, my anger started to subside and I started to miss Sravani very much. When I took the bottle of cold water out of the fridge, I remembered how much we had a fight when we bought this fridge. I said I would take a black fridge and he said I would take a red one. When I turned on the TV without seeing anything good, I remembered Sraboni. Sraboni was very angry that I bought this 42 inch TV after getting paid for the job. He said, “If I was 21 inches, it would work. Why waste so much money?”
As soon as she came to her room and stood in front of the mirror of the dressing table, she thought of Sraboni. Every morning I would wake up and see Sraboni standing in front of the mirror straightening her hair
He looked very tired and lay down on the bed but when he saw the pillow next to him, he remembered Sraboni. He always slept with his head on this pillow
I got out of bed and started thinking to myself, what am I thinking about all this. I will not think about Sraboni anymore. She is a grumpy girl. She called her husband a dog. When I entered the washroom to give tears to my eyes, I remembered that every time Sraboni came to give me the towel during the bath, I dragged Sraboni inside the washroom. Then her pink lips ** …
At that time the sound of the wall clock started ringing. 12 o’clock at night. Sravani also bought this wall clock
No, I can’t stand it anymore. It is not possible to have a moment without Sravani. In every corner of this house, in every piece of furniture, the existence of Shravan is hidden …

—-
Mr. Afzal and his wife Rina went to the kitchen to smell the curry. He went and saw their daughter cooking. Mr. Afzal was surprised and said to the girl,
কার Who are you cooking for so many nights?
The girl smiled and said,
– For your son-in-law. If he doesn’t eat at night, he gets sick again
Mr. Afzal will say,
That son-in-law is angry and left
The girl smiled and said,
– Go and see if he is wandering outside the gate. You call me home. I’m putting food on the table
He came to the balcony and saw Mr. Afzal standing in front of the gate of Pius’s house. Mr. Afzal said to his wife,
Call your son-in-law to come upstairs. If I call, I will not come again for fear

—–
I entered the house and saw all my favorite food on the dining table. Surely Sraboni has cooked. This girl loves me so much. I then told my mother-in-law,
– Mom, I didn’t come to pick up your daughter. I came back angry because I left the food in anger
My mother-in-law started laughing when she heard my words and I looked at Sravani sideways and saw that Sravani was also smiling. This is the smile I saw when I first fell in love with Sravani.
 
 
 

 

Related Articles

Back to top button